টপিকঃ ধ্বনি ও বর্ণ
1.
কোন বর্ণগুলোতে মাত্রা হবে না?
এ এবং ঐ বর্ণ দুটিতে কোনো মাত্রা থাকে না l বাংলা বর্ণমালায় মোট ৫০টি বর্ণের মধ্যে মাত্রাহীন বর্ণ রয়েছে ১০টি। এগুলো হলো: ৪টি স্বরবর্ণ: এ, ঐ, ও, ঔ,৬টি ব্যঞ্জনবর্ণ: ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ
2.
তালব্য ও নাসিক্য বর্ণ কোনটি?
• নিলীন বর্ণ - অ
• স্পর্শবর্ণ বা বর্গীয় বর্ণ - ২৫ টি
• কণ্ঠ্য বর্ণ - ক, খ, গ, ঘ, ঙ
• তালব্য বর্ণ - চ, ছ, জ, ঝ, ঞ
• মূর্ধন্য বর্ণ - ট, ঠ, ড, ঢ, ণ
• দন্ত বর্ণ - ত, থ, দ, ধ, ন
• ওষ্ঠ্য বর্ণ - প, ফ, ব, ভ,ম
• নাসিক্য বর্ণ বা অনুনাসিক বর্ণ - ঙ, ঞ, ণ, ন, ম
• অন্তঃস্থ বর্ণ - য, র, ল
• শিশধ্বনি - শ, ষ, স
• কম্পনজাত ধ্বনি - র
• পার্শ্বিক বর্ণ - ল
• তাড়নজাত ধ্বনি - ড়, ঢ়
• খন্ডব্যঞ্জন - ৎ
3.
কোন দুটি অঘোষ ধ্বনি?
চ, ছ হলো অঘোষ ধ্বনি। বাংলা ব্যাকরণে প্রতিটি বর্গের প্রথম ও দ্বিতীয় ধ্বনি হলো অঘোষ ধ্বনি। যেহেতু চ-বর্গের প্রথম ও দ্বিতীয় ধ্বনি হলো চ এবং ছ, তাই এদের অঘোষ ধ্বনি বলা হয়
4.
বাংলা স্বরধ্বনিতে কয়টি হ্রস্ব স্বর আছে?
বাংলা ব্যাকরণে হ্রস্ব স্বরধ্বনি ৪টি। এগুলো হলো: অ ই উ ঋ
5.
ব্যঞ্জন বর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপকে কি বলা হয়?
বাংলা ব্যাকরণ অনুযায়ী, স্বরবর্ণ যখন ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে যুক্ত হয়, তখন স্বরবর্ণের যে সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয় তাকে বলা হয় 'কার'।
আর ব্যঞ্জনবর্ণ যখন অন্য কোনো ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে যুক্ত হয়, তখন ব্যঞ্জনবর্ণের যে সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহৃত হয় তাকে বলা হয় 'ফলা'।
স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ ১০টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্ত রূপ ৬টি।
• উদাহরণ:
ম-ফলা: পদ্ম (এখানে 'দ'-এর সাথে 'ম' যুক্ত হয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে নিচে বসেছে।)
য-ফলা: বাক্য (এখানে 'ক'-এর সাথে 'য' যুক্ত হয়েছে।)
র-ফলা: ব্রত (এখানে 'ব'-এর সাথে 'র' যুক্ত হয়েছে।)
6.
একটি ধ্বনিতে কয়টি 'প্রতীক' ব্যবহৃত হয়?
একটি ধ্বনিতে সাধারণত একটি প্রতীক ব্যবহৃত হয়। ভাষার উচ্চারিত ক্ষুদ্রতম একক হলো ধ্বনি এবং ধ্বনির লিখিত রূপ বা নির্দেশক চিহ্নকে বর্ণ (প্রতীক) বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ— 'ক' ধ্বনির লিখিত প্রতীক বা বর্ণ হলো 'ক'
7.
ব্যঞ্জন বর্ণের বিকল্প রূপের নাম-
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ (NCTB) অনুযায়ী, ব্যঞ্জনবর্ণের প্রাথমিক বা মূল রূপের বাইরে যেসব বিকল্প রূপ রয়েছে, সেগুলোকে অনুবর্ণ বলে। অনুবর্ণ ৩ প্রকার:
১. ফলা (যেমন: য-ফলা, র-ফলা)
২. বর্ণসংক্ষেপ (যেমন: ৎ)
৩. রেফ (র্)
8.
বাংলা ভাষায় সংখ্যা নির্দেশের জন্য কয়টি সংখ্যাবর্ণ রয়েছে?
বাংলা ভাষায় সংখ্যা নির্দেশের জন্য মোট ১০টি সংখ্যাবর্ণ বা অঙ্ক রয়েছে। এগুলো হলো:০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯
9.
'ধ্বনি' সম্পর্কে নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
মানুষ মনের ভাব প্রকাশের জন্য যে কথা বলে তার মূলে আছে কতকগুলো ধ্বনি।
-ড. হায়াৎ মামুদ ‘ভাষা-শিক্ষা’ গ্রন্থে বলেন, ‘মনের ভাব প্রকাশের জন্য মুখ থেকে যে আওয়াজ বা শব্দ বের হয় তাকে ধ্বনি বলে। তবে, ব্যাকরণে শুধু মানুষের মুখনিঃসৃত অর্থবোধক আওয়াজকে ধ্বনি বলে।
-অর্থাৎ অর্থবোধক ধ্বনির সমষ্টিই ভাষার প্রধান উপাদান। কিন্তু ধ্বনি দৃশ্যমান নয়, ধ্বনি উচ্চারণীয় ও শ্রবণীয়। একজন বলে অন্যজন শোনে। সেই ধ্বনিকে, আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে, বাগধ্বনিকে একটা দৃশ্যরূপ দেওয়ার জন্যই বর্ণের সৃষ্টি হয়েছে।'
-ড. মুহম্মদ আবদুল হাই ‘তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা' গ্রন্থে বলেন, 'মানুষের সঙ্গে মানুষের সামাজিকতা বজায় রাখতে হলে তার প্রধান উপায় কথা বলা, মুখ খোলা, আওয়াজ করা। সে আওয়াজ বা ধ্বনিগুলোর একমাত্র শর্ত হচ্ছে যে, সেগুলো অর্থবোধক হওয়া চাই।’
-‘অর্থবোধকতা’ প্রসঙ্গে ড. মুহম্মদ আবদুল হাই ‘ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব' গ্রন্থে বলেন, ‘অর্থবোধক ধ্বনিগুলোই মানুষের বিভিন্ন ভাষার বাধ্বনি।' মানুষের বাক-প্রত্যঙ্গ অর্থাৎ কণ্ঠনালী, মুখবিবর, জিহ্বা, আল-জিহ্বা, নাসিকা, কোমল তালু, শক্ত তালু, দাঁত, মাড়ি, চোয়াল, ঠোঁট ইত্যাদির সাহায্যে উচ্চারিত আওয়াজকে ধ্বনি বলে।
10.
বাংলা বর্ণমালায় কতটি বর্ণ আছে?
বাংলা বর্ণমালা
বাংলা বর্ণমালায় মোট পঞ্চাশ (৫০)টি বর্ণ রয়েছে। তার মধ্যে স্বরবর্ণ এগার (১১)টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ঊনচল্লিশটি (৩৯)টি।
১. স্বরবর্ণ : অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ(১১টি)
২. ব্যঞ্জনবর্ণ : ক খ গ ঘ ঙ (৫টি)
চ ছ জ ঝ ঞ (৫টি)
ট ঠ ড ঢ ণ (৫টি)
ত থ দ ধ ন (৫টি)
প ফ ব ভ ম (৫টি)
য র ল (৩টি)
শ ষ স হ (৪টি)
ড় ঢ় য় ৎ (৪টি)
মোট ৫০টি
বিশেষ জ্ঞাতব্য : ঐ, ঔ - এ দুটি দ্বিস্বর বা যৌগিক স্বরধ্বনির চিহ্ন। যেমন – . অ + ই = ঐ, অ + উ =ঔ